ফ্রিল্যান্সিং কি ? কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

জেনেনিন ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়বেন ?

ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করার অনেক উপায়ের বিষয়ে আমি আগেই আপনাদের বলেছি। আজকের আর্টিকেলে আমি আরেকটি জনপ্রিয় অনলাইনে ইনকামের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি।

অনলাইনে টাকা আয় করা যায় এটি ২০২৩ সালে সকলের কাছে কোন অজানা বিষয় নয়। অনলাইনে টাকা ইনকাম করার অনেক উপায় রয়েছে তার মধ্যে একটি সেরা উপায় হলো ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি আমাদের সকলের কাছে অধিক পরিচিত। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং বাংলাদেশের প্রচুর বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে অনেকে ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছেন। এই কাজটিকে আজকাল অনেকেই তাদের ক্যারিয়ার (career) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং পার্ট টাইম (part-time) অথবা ফুল টাইম (full-time) কাজ করার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ টাকা আয় করছেন।

Freelancing হলো এমন একটি পেশা (Profession) যেখানে আপনার কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। আপনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোন সময় ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাধীনভাবে আয় করার জন্য আপনার প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট সেক্টরে দক্ষতা অর্জন করা।

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এবং আউটসোর্সিং (Outsourcing) এর পরিধি বিশাল। ফটো এডিটিং (Photo Editing) এর কাজ, ভিডিও এডিটিং (Video Editing) এর কাজ এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design) এর সকল কাজ ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (Computer Programming), কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing), ওয়েব ডিজাইন (Web Design), সসফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট (Software Development), ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing), এসইও (Search Engine Optimisation) ইত্যাদি সকল কাজ আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে পেতে পারবেন।

আর এ জন্য আপনার এই সকল কাজে অনেক ভালো দক্ষতা (skill) অর্জন করতে হবে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং কি এবং ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় এসব বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

ফ্রিল্যান্সিং কি

এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন, ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি এবং ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো এই ধরনের সকল প্রশ্নের উত্তর আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানিয়ে দিবো।

তাই Freelancing কি, ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবো এবং ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার গাইডলাইন এর বিষয়ে সবকিছু জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনযোগ সহকারে পড়ুন।

 

Contents

ফ্রিল্যান্সিং কি ? (What is Freelancing in Bangla)

আজকাল ফ্রিল্যান্সিং কথাটির সাথে আমরা সকলেই অনেক ভালোভাবে পরিচিত। কেননা যে কেউ ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং এর নাম একবার হলেও শুনে থাকবেন।

তাছাড়া বর্তমানে ফেসবুকের News feed ঘোরাঘুরি করার সময় প্রায়ই এরকম বিজ্ঞাপন (advertisements) আমাদের চোখে পড়ে যেমন: “মাত্র ১৫ দিনে ফ্রিল্যান্সিং শিখে আয় করুন হাজার হাজার টাকা!”

বিশেষ করে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং পেশাটির সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য অধিক আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে।

আর তাই আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার (freemancer) হতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি বা ফ্রিল্যান্সিং মানে কি, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়বেন এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি এসব বিষয়ে ভালো করে জেনে নেওয়া অবশ্যই দরকার।

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) হলো ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ হলো কোন একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হয়ে কাজ করার পরিবর্তে বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা।

এই কাজটি হচ্ছে অনেকটা পার্ট টাইম জবের মতো। যদিও পার্ট টাইম জব বা চাকরির ক্ষেত্রে কেবল একটি কোম্পানির আওতায় কাজ করতে হয়, কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একাধিক কোম্পনির যাবতীয় কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি মুক্তপেশা এবং এর মাধ্যমে লোকেরা স্বাধীনভাবে (self-employed) বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের অনেক সুবিধা (advantage) রয়েছে।

মনে করুন, আপনার যদি কোনদিন কাজ করতে ইচ্ছা না করে তাহলে সেদিন আপনি কাজ না করে বসে থাকতে পারবেন।

আবার ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য ধরাবাঁধা কোন কাজের সময় বা অফিস টাইম নেই। আপনার যখন খুশি তখনই কাজ করতে পারবেন।

সাধারণ চাকরির থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর ভিন্নতা হলো কাজের স্থান। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য আপনার নির্দিষ্ট কোন অফিস (office) থাকার দরকার নেই।

আপনি ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল কাজ সম্পাদনা করতে পারবেন। সব ধরনের কাজ করার জন্য আপনার কেবল একটি কম্পিউটার (computer) বা ল্যাপটপ (laptop) ও মোবাইল ফোনের (mobile phone) প্রয়োজন হবে এবং এসব ডিভাইসে অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন (internet connection) থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে অফিস হলো আপনার নিজের বাড়ি। তবে যারা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে টাকা আয় করেন তাদের বলা হয় ফ্রিলান্সার (Freelancer)

আজকাল ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ক্লায়েন্টদের নানা ধরনের কাজ করে দিয়ে টাকা ইনকাম করছেন।

আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার ক্লায়েন্টের একটি project বা service এর কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে কত টাকা নিবেন তা আপনি ক্লায়েন্টের সাথে আগেই ঠিক করে নিতে পারবেন।

যখন আপনি সঠিকভাবে তার কাজটি সম্পন্ন করবেন তখন আপনাকে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।

ফ্রিল্যান্সিংকে আমরা এক ধরনের ব্যবসা (business) বলতে পারি যা একজন ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালিয়ে যেতে পারবেন।

Note: সম্প্রতি সকল ফ্রিল্যান্সারদের তাদের পরিচয় (identity) ব্যবহারের জন্য একটি আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি (Freelancing কি) এ বিষয়ে আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে (What is Freelancing in Bengali) অথবা ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বোঝায় এ বিষয়ে নিচে আরও সহজভাবে আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের বুঝিয়ে দিবো।

ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে বা ফ্রিল্যান্সিং মানে কি ?

Freelancing হলো এমন এক ধরনের পেশা যেখানে আপনি ঘরে বসে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বায়ারদের সাথে কাজ করতে পারবেন।

যদি Freelancing এর সাথে জড়িত কাজসমূহে আপনার অনেক ভালো দক্ষতা (skill) এবং অভিজ্ঞতা (experience) থাকে তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে খুব সহজেই সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির চেয়ে বেশি বেতনে কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে (Marketplace) কাজ পেয়ে থাকেন। কেবল মার্কেটপ্লেসেই নয়, এর বাইরেও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা কাজ পেয়ে থাকেন।

ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেসে বা ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে কাজ করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিজের কাজের দক্ষতা অনুসারে প্রোফাইল (profile) সাজিয়ে রাখতে হয়। যিনি আপনাকে কাজ করতে দিবেন তাকে বলা হয় বায়ার (buyer)।

মার্কেটপ্লেসে বায়াররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিয়ে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি এ বিষয়ে নিচে আমি আরও ভালোভাবে আপনাদের বুঝিয়ে দিবো।

মার্কেটপ্লেসে যারা আপনাকে কাজ দিবেন তাদের বলা হয় ক্লায়েন্ট (client) বা বায়ার।

যখন কোন ক্লায়েন্ট তার কোন কাজ আপনার মাধ্যমে করানোর জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ (contact) করবে তখন সেই কাজটি করার মাধ্যমে আপনি কত $ ডলার নিতে চান সেটা কথা বলে নিতে পারবেন।

আপনি যখনই তার কাজের order confirm করবেন তখনই মার্কেটপ্লেসে আপনার একাউন্টে সেই কাজের টাকা জমা হয়ে যাবে। কাজ শেষ করে ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর আপনি সেই টাকা পেয়ে যেতে পারবেন।

আবার অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা মার্কেটপ্লেসের বাইরেও নিজের পোর্টফলিও ওয়েবসাইট (Portfolio website) তৈরি করে রাখেন এবং সেখানে তার সব কাজের দক্ষতা সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্টরা নিজেই তাকে খুঁজে বের করে কাজ করতে দিবে।

তাছাড়া অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট যেমন: Facebook, Twitter, Instagram, Linkedin এর মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রোফাইল তৈরি করে রাখেন। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্টরা তাদের প্রোফাইল খুঁজে বের করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

তাছাড়া যখন লোকেরা কোন কাজ করানোর জন্য এসব সাইটে সেই কাজ সম্পর্কে post করে থাকেন তখন ফ্রিল্যান্সাররা সেই পোস্ট দেখে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে থাকে।

Marketplace এর বাইরে এভাবে ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন কাজ পেয়ে থাকে এবং তা সম্পন্ন করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে।

তবে মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা বা অসুবিধা অবশ্যই রয়েছে।

মনে করুন, কোন একজন ক্লায়েন্ট সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে আপনার সাথে যোগাযোগ করে কোন একটি কাজ দিলো, আপনি সেই কাজটি সঠিকভাবে শেষ করে তাকে delevary দিয়ে দিলেন, এরপর যদি সে আপনাকে আপনার পারিশ্রমিকের টাকা অস্বীকার করে তাহলে আপনার করার মতো তেমন কিছুই থাকবে না।

যদিও এরকম ঘটনা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। তাই ফ্রিল্যান্সাররা নিরাপদভাবে তাদের পেমেন্ট (payment) পাওয়ার জন্য মার্কেটপ্লেসে কাজ করে থাকেন এবং এখানে ক্লায়েন্টের কাজ ডেলিভার্ড করার পর টাকা না পাওয়ার মতো কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় না।

তবে মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করলে প্রতিটি কাজের পেমেন্ট থেকে সামান্য পরিমাণ টাকা তারা কেটে নিবে এবং এতে আপনার পেমেন্ট সঠিকভাবে পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা থাকবে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি বা ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে এবং ফ্রিল্যান্সিং কাজের সিস্টেম সম্পর্কে আশা করি উপরে আপনারা ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। এখন Marketplace কাকে বলে এ বিষয়ে এ বিষয়ে আমি নিচে আলোচনা করবো।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং খাতে অনেক ভালো অবস্থানে র‍য়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাদার ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে শত কোটি টাকার কাজ করানো হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সিং এ যেমন প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। এই বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের সঠিক ধারণা না থাকায় বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতারণার ফাঁদ পেতে অনেক টাকা ইনকাম করছে।

এ সব বিষয়ে পরবর্তীতে আমি ভালোভাবে আপনাদের বুঝিয়ে দিবো। এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি?

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি ?

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার আগে প্রথমেই আপনাকে জেনে নিতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আসলে কি?

Freelancing Marketplace হচ্ছে এমন একটি Online Platform, যেখানে বায়ার বা ক্লায়েন্ট কাজ করিয়ে নেয় এবং ফ্রিল্যান্সররা কাজ সম্পূর্ণ করে দিয়ে টাকা উপার্জন করে থাকে।

Marketplace বলতে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোকে বোঝানো হয়, যে সব ওয়েবসাইটে সকল ফ্রিল্যান্সার নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করে এবং ক্লায়েন্টরা এ সব ওয়েবসাইটে এসে ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিয়ে থাকে।

মার্কেটপ্লেসের payment system একদম নিরাপদ (secure) যা আমি আপনাদের আগেই বলেছি।

তবে এক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ করার মাধ্যমে যে টাকা উপার্জন করে তার কিছু অংশ মার্কেটপ্লেস কেটে নিয়ে থাকে। এভাবে ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলো টাকা ইনকাম করে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে আয় করা টাকা আপনি সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে (bank account) অথবা ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট মেথড পেপালের (PayPal) মাধ্যমে তুলে নিতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস পাবেন। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করাই সবচেয়ে ভালো এবং লাভজনক।

কিছু সেরা এবং জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের নাম হলো:

  • Upwork
  • Fiverr
  • Freelancer
  • People Per Hour
  • 99 designs
  • Guru

Freelancing মানে হলো, যে সব কাজের বিষয়ে আপনার বিশেষ অভিজ্ঞতা (experience) বা দক্ষতা (skills) আছে, তার সাথে রিলেটেড কাজ অন্যদের করিয়ে দেওয়া এবং তার বিনিময়ে টাকা নেওয়া।

যেমন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর যে কাজটি আপনি করতে জানেন সেটা ঘন্টায় (hourly), ডেইলি (daily), সাপ্তাহিক (weekly) বা মাসিক (monthly) হিসেবে করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আপনি যদি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে Freelancing এর কাজ করে অনলাইনে টাকা আয় করতে চান, তাহলে আপনার মধ্যে কিছু বিশেষ ট্যালেন্ট (talent), কোয়ালিটি (quality), অভিজ্ঞতা (experience) এবং দক্ষতা (skills) অবশ্যই থাকতে হবে, যেগুলোর উপর ভরসা করে লোকেরা আপনাকে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে দিবে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সার ও ফ্রিল্যান্সিং কি বা Freelancing কাকে বলে এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কাকে বলে এ সব বিষয়ে আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেন গড়বেন, ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যত কেমন, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন, মার্কেটপ্লেসে কিভাবে কাজ পাবেন এবং একজন ফ্রিল্যান্সার হতে যা যা প্রয়োজন এই সব বিষয়ে পর্যায়ক্রমে নিচে আমি ভালোভাবে আলোচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেন গড়বেন ?

ফ্রিল্যান্সিংকে একেবারে সহজ কাজ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের (successful freelancer) ইনকামের পরিমাণও কম নয়।

ফ্রিল্যান্সিং লাইফের বিষয়ে যদি আপনাদের বলি তাহলে একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সফলতার পিছনে সম্পূর্ণ কাহিনী শুনলে আপনি অবশ্যই তাকে Legend বলবেন।

কারণ একজন সাকসেসফুল ফ্রিল্যান্সার কেউ সহজে এবং একদিনে হতে পারে না। এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয় এবং প্রচুর ধৈর্য্য থাকতে হয়।

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সফল হতে হলে কম্পিউটারের সামনে বসে ইন্টারনেটে কাজ শিখতে শিখতে রাতের পর রাত কাটানো, বিভিন্ন ধরনের YouTube Tutorial দেখা, বই পড়া, ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শিখে অনুশীলন (practice) করা ইত্যাদি আরও অনেক পরিশ্রম করতে হয়।

এক্ষেত্রে যদি কেউ কেবল টাকা আয়ের আশা না করে ধৈর্য্য ধারণ করে নির্দিষ্ট কোন একটি বিভাগের কাজে দক্ষতা অর্জনের জন্য দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস পরিশ্রম করে তাহলে সে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হয়ে দাঁড়াতে পারবে।

আবার ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে প্রচুর প্রতিযোগিতা (competition) রয়েছে। যেহেতু আজকাল বেশিরভাগ লোকেরাই অনলাইনে টাকা আয় করার মাধ্যম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংকে বেছে নিচ্ছেন, তাই এই কাজের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচুর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে কাজ পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কোন একটি ক্যাটাগরির কাজে অনেক ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেই কাজে আপনার প্রচুর ট্যালেন্ট এবং অভিজ্ঞতা অবশ্যই থাকতে হবে।

এই বিষয়টি একটি উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে আপনাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি।

মনে করুন, যুক্তরাষ্ট্রের একটা কোম্পানি মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে তাদের একটা জব আউটসোর্স (outsource) করলো। এটি হলো ২ সপ্তাহের project এবং এই কাজের বিনিময়ে তারা ১ হাজার ডলার দিবে।

যেহেতু মার্কেটপ্লেসে সারা বিশ্বের সকল ফ্রিল্যান্সাররা আছেন, তাই যে কেউ চাইলে সেই কাজটা পাওয়ার জন্য apply করতে পারবেন।

অবশ্যই যার সেই কাজে ভালো অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রয়েছে সে এই কাজটি পাওয়ার জন্য apply করবেন।

তার মানে হলো, সারা বিশ্বের টপ ফ্রিল্যান্সাররা সেই কাজটি পেতে চাইবেন। এখন আপনি যদি সেই কাজটি করার জন্য আবেদন করেন, তাহলে দেখুন আপনাকে টপ ফ্রিল্যান্সারদের সাথে প্রতিযোগিতা করে কাজ পেতে হবে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, যেকোন কাজের ক্ষেত্রে আপনার কতটা দক্ষতা (skills) অর্জন করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করা অবশ্যই যাবে। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন, যারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

কিন্তু তারা এটা করতে পারছেন তাদের প্রচুর পরিশ্রম এবং ধৈর্যের কারণে।

ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যত কি ?

আজকাল প্রত্যেকের কাছেই একটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন রয়েছে। আর এসব ডিভাইসের সাথে অবশ্যই internet connection রয়েছে।

যেহেতু মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারের সাহায্যে ঘরে বসে ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করা যায়, তাই এখন প্রত্যেকে চাইছেন বাড়িতে বসে নিজের অবসর সময়ে ইন্টারনেটে কাজ করে বাড়তি টাকা ইনকাম করতে।

আর ঘরে বসে টাকা আয় করার জন্য freelancing হলো অন্যতম একটি ইনকামের উপায়।

কেননা এখানে কাজ করার জন্য কোন ধরাবাঁধা সময় নেই। আর এখানে নিজের ট্যালেন্ট, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায়।

কেবল যে চাকরি করেই অধিক পরিমাণ টাকা আয় করা যায় তা নয়, বর্তমানে বিভিন্ন online freelancing platform রয়েছে যেগুলোতে নিজের ইচ্ছামত কাজ করে ঘরে বসে থেকে অনলাইনে আয় করা যায়।

তবে এটা আপনি করতে পারবেন, যদি আপনার একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কাজে ভালো দক্ষতা থাকে।

অনেকেই আছেন যারা চাকরি (job) করার পাশাপাশি অবসর সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করে বাড়তি (extra) টাকা ইনকাম করছেন।

আবার অনকেই ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করছেন, যার কারণে তাকে অন্য কোন চাকরি বা ব্যবসা করতে হচ্ছে না।

সারাবিশ্বে স্বাধীনভাবে কাজ করা দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর যেহেতু বিশ্বজুড়ে ছোট বড় বিভিন্ন কোম্পানিগুলো তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ করানোর জন্য এসব দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করছেন, তাই বলা যায় ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যতে (future) অনেক ভালো।

তবে, এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা যত দিন যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেন গড়বেন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যত কি এসব বিষয়ে আশা করি উপরে ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।

এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন ?

ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন ?

একজন ফ্রিল্যান্সারের প্রধান কাজ হলো client এর দেওয়া কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা এবং delivery দেওয়া।

এক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো কাজ করার দক্ষতা।

যদি ক্লায়েন্টের দেওয়া কাজটি সম্পর্কে তার ভালো জ্ঞান না থাকে তাহলে সেটা সে সঠিকভাবে শেষ এবং delivery করতে পারবে না।

এখন যদি বলা হয়, ফ্রিল্যান্সার হতে কি প্রয়োজন?

তাহলে এর উত্তর হবে, কাজের অভিজ্ঞতা এবং কৌশল এর।

ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত সকল কাজ হলো online base বা ইন্টারনেট ভিত্তিক। আপনাকে এক বা একাধিক কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা বা জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত এরকম কয়েকটি কাজ হলো: ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এনিমেশন তৈরি ইত্যাদি।

এগুলোর মধ্যে ধরে নিন আপনি Content Writing এর কাজটি ভালো পারেন। আপনার ভালো ভালো এবং SEO Friendly ইংরেজি কনটেন্ট লেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তাহলে আপনি একজন Freelancer হিসেবে মার্কেটপ্লেসে কনটেন্ট রাইটিং এর সাথে সম্পর্কিত project গুলোতে কাজ করতে পারবেন।

এভাবে আপনি যদি ভিডিও এডিটিং কিংবা লোগো ডিজাইন এর কাজ ভালো জানেন, তাহলে আপনি এই রিলেটেড project গুলোতে কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন।

এছাড়া freelancing করার জন্য আপনার আরও কিছু জিনিস অবশ্যই প্রয়োজন হবে, যেগুলো আমি নিচে উল্লেখ করেছি।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কিসের প্রয়োজন?

  • আপনার নিজের কম্পিউটার যেমন: laptop অথবা desktop এবং internet connection থাকতে হবে।
  • একটি android smartphone থাকতে হবে।
  • লোকদের সাথে ইংরেজি ভাষায় (English language) যোগাযোগ (communication) করার মতো সামর্থ্য থাকতে হবে। কারণ, ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে আপনাকে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলতে হবে এবং কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে, বাহিরের অনেক ব্লগ পড়তে হবে এবং অনেক মার্কেটপ্লেসে জয়েন (join) থাকতে হবে।
  • আপনার Online Presence যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং নিজের portfolio website থাকতে হবে।

এছাড়াও একজন ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনার যা যা লাগবে:

  • ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য একটি বিভাগ বা catagory সিলেক্ট করতে হবে, যেই বিভাগের সাথে রিলেটেড কাজগুলো আপনি করতে চান।
  • প্রথমে আপনাকে ভালোভাবে কাজ শিখে নিতে হবে এবং দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
  • যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং এর সকল কাজ ইন্টারনেট ভিত্তিক, তাই ইন্টারনেট জগত সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
  • আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। কোনো কাজ নেওয়ার সময় অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে যে, আপনি কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে সঠিকভাবে শেষ করতে পারবেন কি না। এ জন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিজের দক্ষতা ও কৌশল ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ক্লায়েন্টকে জানাতে হবে যে আপনি তার কাজের জন্য উপযুক্ত।
  • ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে গেলে প্রায় সময় আপনি বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন, যেগুলো ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমাধান করা সম্ভব। তাই কাজ করার সময় যেসব সমস্যা তৈরি হবে সেই সমস্যাগুলো সমাধানের কৌশল আপনাকে জানতে হবে। এ জন্য ইন্টারনেটে দ্রুত এবং সঠিকভাবে তথ্য খোঁজার কৌশল জানতে হবে।
  • ক্লায়েন্টের তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মানসিকতা থাকতে হবে। যেমন তেমনভাবে কাজ জমা দেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • এছাড়াও যে কাজটি আপনি ক্লায়েন্টকে ডেলিভারি দিয়ে দিবেন, সেটাতে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী আরও পরিবর্তন আনার মন-মানসিকতা আপনার থাকতে হবে। ক্লায়েন্টের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিরক্ত হবেন না, এতে আপনি নিজের একাউন্টে খারাপ rating পেতে পারেন।
  • আপনাকে সবসময় যেকোন বিষয়ে জানার জন্য research করতে হবে।
  • আপনাকে মিনিমাম লোকদের সাথে কমিউনিকেশন করার মতো ইংরেজি ভাষা জানতে হবে।
  • সবসময় নিজেকে update রাখার চেষ্টা করবেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন নতুন কাজ শিখতে হবে।
  • ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ করছে, তাদের কাজের ধরণ ও কাজ পাওয়ার কৌশল এবং কাজের standard অনুসরণ করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায় ? জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমূহ

যদি প্রশ্ন আসে যে, ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ পাওয়া যায় অথবা ফ্রিল্যান্সিং এ কোন ধরনের কাজের চাহিদা বেশি?

তাহলে এরউত্তর হলো, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অসংখ্যা ধরনের কাজ রয়েছে।

যেকোন কাজ করেই আপনি এখান থেকে টাক ইনকাম করতে পারবেন। তবে সব ধরনের কাজের মধ্যে কিছু স্কিল বা দক্ষবা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতে ব্যাপক জনপ্রিয়।

ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায় তার একটি তালিকা আমি নিচে উল্লেখ করেছি।

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং স্কিলসমূহ হলো:

  • ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন (ডিজাইনার)
  • কনটেন্ট রাইটিং (রাইটার বা কপিরাইটার)
  • ডিজিটাল মার্কেটিং (সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং)
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
  • প্রোগ্রামার বা কোডার
  • ট্রান্সলেটর
  • একাউন্ট্যান্ট
  • পিআর ও ব্র্যান্ডিং
  • এইচআর ম্যানেজার
  • অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার
  • Drupal, PHP এবং WordPress ডেভেলপার
  • ফ্যাশন ডিজাইনার
  • গেম ডেভেলপার
  • লোগো ডিজাইনার
  • ভিডিও এডিটর
  • প্রজেক্ট ম্যানেজার
  • প্রোডাক্ট ডিজাইনার
  • সফটওয়্যার ডেভেলপার
  • 3D আর্টিস্ট

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে সকল ধরনের কাজ রয়েছে। কিন্তু উপরে উল্লেখিত কাজসমূহে দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা বেশি কাজ পেয়ে থাকেন।

এই স্কিলগুলো কঠোর পরিশ্রম করে শেখার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়, তাই এগুলোর মূল্য অনেক বেশি।

তবে ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মসমূহে এই সব ক্যাটাগরির কাজ পাওয়া কষ্টসাধ্য।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি বা ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বোঝায় এবং ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ পাওয়া যায় এ বিষয়ে আশা করি আপনারা ভালো ধারণা পেয়ে গেছেন।

কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ? (How to Start Freelancing Career)

আপনি যেই কাজে বেশি দক্ষ সেই কাজগুলোই ফ্রিল্যান্স হিসেবে করতে পারবেন। আপনার জানা কাজগুলোতে নিয়মিত বিড করতে পারবেন।

প্রথমের দিকে আপনি যা জানেন তা দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং শুরু (start) করে দিতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন এই বিষয়টি নিয়ে আমরা পরিবর্তীতে আসবো।

ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট, কপিরাইটিং, মার্কেটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ডিজাইন এসব কাজের চাহিদা ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মগুলোতে প্রচুর রয়েছে। কিন্তু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্যাটাগরির বেলায় প্রতিযোগিতা অনেক রয়েছে।

আবার, যদি Web development, Software development, Programming / Coding এর কথা বলি, তাহলে এগুলো তুলনামূলক কঠিন কাজ, আর এই কাজগুলোতে তেমন প্রতিযোগিতা নেই, আবার আয়ও বেশি।

তবে এসব কাজ অনেক নিখুঁতভাবে করতে হয় এবং আপনার গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন হবে।

তাহলে আপনার অভিজ্ঞতার নির্ভর করবে যে, কোন ধরনের কাজ আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে করবেন এবং কত টাকা আয় করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কিভাবে শুরু করবেন এই বিষয়ে নিচে উল্লিখিত স্টেপগুলো ভালোভাবে পড়লে আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর গাইডলাইন সম্পূর্ণ ভালোভাবে জেনে যাবেন।

১. নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য আপনাকে সবার আগে নিজের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ঠিক করে নিতে হবে, এরপর এই লক্ষ্য নিয়ে আপনাকে সামনে আগাতে হবে।

যেমন: আপন ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং করতে চান নাকি আপনার চাকরির পাশাপাশি ফ্রি সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, এগুলো ঠিক করতে হবে।

তাছাড়া আপনি প্রতিদিন কতটুকু সময় দিতে পারবেন এবং আপনার জন্য ধৈর্য্য এবং শ্রম দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শেখা সম্ভব কিনা তা ভালোভাবে ভেবে নিতে হবে।

২. কাজের নিস (niche) বাছাই করুন

একজন মানুষের দ্বারা একসাথে একাধিক ক্যাটাগরির কাজ শেখাটাও সম্ভব না আবার করাটাও সম্ভব না।

আর আপনি চাইলে যেকোন একটি বিষয়ে সহজে এবং কম সময়ে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে সবার আগে কেবল একটি স্পেসিফিক বিষয় বেছে নিতে হবে। তারপর সেই বিষয়ের সাথে জড়িত কাজগুলো এক এক করে শিখতে হবে।

মনে রাখবেন, নিস সিলেক্ট করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ (step)।

আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে অল্প কিছু কাজ শিখে সেটা বাদ দিয়ে অন্য কোন বিষয়ে কাজ শিখতে চান, তাহলে আপনার অনেক সময় লেগে যাবে।

তাই কেবল একটি বিষয়ের উপর সবসময় ফোকাস (focus) করুন এবং সেই বিষয়ের কাজগুলো সম্পর্কে খুটিনাটি সবকিছু ভালোভাবে শিখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনেক বেশি কম্পিটিশন রয়েছে। এখানে সফলভাবে কাজ করতে হলে আপনাকে প্রচুর expert হতে হবে।

তাই আপনি যদি কেবল একটি কাজ নিয়ে পুরোপুরি এক্সপার্ট হয়ে যান, তাহলে সেই কাজটি করে আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

আর যখনই আপনি একাধিক কাজ নিয়ে একসাথে ঘাটাঘাটি করবেন, তখন সেটার ফল ভালো নাও হতে পারে।

৩. কোন কোন Freelancing Platform বা মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন ?

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম বা ওয়েবসাইটগুলোতে একাউন্ট করার মাধ্যমে কাজ শুরু করে দিতে পারবেন।

দেশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে দক্ষ ও বিশ্বাসী ফ্রিল্যান্সারদের খোঁজ করে থাকেন।

এখানে যখন কোন ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিবে এবং আপন সেটা শেষ করে সঠিকভাবে তাকে বুঝিয়ে দিবেন, এতে আপনি পারিশ্রমিকের টাকাও পাবেন, সেই সাথে আপনার প্রতি তার একটা বিশ্বাস তৈরি হয়ে যাবে।

তারপর সে আপনার একাউন্টে ভালো রেটিং দিয়ে দিবে, যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং লাইফে অনেক ভালো প্রভাব বিস্তার করবে।

এভাবে যখন আপনার একাউন্টে অনেক ক্লায়েন্টের ভালো ভালো রেটিং বা রেভিউ থাকবে, তখন অন্যান্য ক্লায়েন্টরা আপনার সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং আপনাকে সহজেই কাজ দিতে আগ্রহী হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি কোন সাইটগুলো ব্যবহার করতে পারেন তার একটি তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো।

ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করার সেরা ৫ টি সাইট (Top 5 Freelancing Websites)

Fiverr

এখন আমরা কথা বলছি একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট Fiverr নিয়ে।

ফাইভার অন্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর তুলনায় বেশ এগিয়ে আছে। নতুনদের জন্য Fiverr দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করা বেশ সুবিধাজনক।

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এ একদম নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে ফাইভার আপনার জন্য হতে পারে সবচেয়ে সেরা সুযোগ। এই ওয়েবসাইটে সর্বনিম্ন ৫ ডলার থেকে শুরু করে অনেক বেশি পরিমাণ টাকার কাজ আপনি পেতে পারেন।

ফাইভারে কনটেন্ট রাইটিং, লোগো ডিজাইন বা গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি ক্যাটাগরির ফ্রিল্যান্সিং কাজ বেশ জনপ্রিয়।

এই ওয়েবসাইটে কাজ করার পর পেপাল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে টাকা উত্তোলন করা যায়।

Upwork

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হলো Upwork। এই সাইটের job posting feed খুব দ্রুত আপডেট হয়।

আপওয়ার্কে যেকোনো ছোট business থেকে শুরু করে বড় Multinational Company ফ্রিল্যান্সার খুঁজে নেয় কাজ করানোর জন্য। এই ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে আপনি খুব সহজেই আপনার পছন্দের কাজটি বেছে নিতে পারবেন।

আপওয়ার্কে আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কাস্টমার সাপোর্ট, ফ্রিল্যান্স রাইটিং এবং ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট এর মতো কাজগুলো খুব সহজেই পেতে পারবেন। আজকাল এই কাজগুলোর চাহিদা অনেক বেশি।

আর এই ওয়েবসাইট থেকে আয় করা টাকা আপনি পেপাল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে উত্তোলন করতে পারবেন।

Freelancer

freelancer.com হচ্ছে আরেকটি সেরা ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম, যেখানে প্রায় ১৬ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার কাজ করে। এই প্লাটফর্মটি অনেক পুরনো এবং সকলের কাছে অধিক জনপ্রিয়।

কিন্তু যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন, তাদেরকে আমরা শুরুতে এই সাইটে কাজ করার পরামর্শ দিবো না।

ফ্রিল্যান্সিং জগতে যখন আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে তখন এই সাইটে কাজ করাটা আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। কারণ, এখানে শুরুর দিকে নতুন project এর কাজ শেষ করার পর আপনাকে অতিরিক্ত কিছু ভাতা দিতে হয়।

আপনি কাজ করার মাধ্যমে প্রতিটি প্রজেক্ট থেকে যত টাকা ইনকাম করবেন তার ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা এই প্লাটফর্ম কেটে নিয়ে থাকে।

এ সাইটে আয় করা টাকা আপনি পেপাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ও ব্যাংক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে উত্তোলম করতে পারবেন।

People Per Hour

People Per Hour হলো বর্তমানে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম।

এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসটি লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই সাইটের নামের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, এখানে ঘণ্টাভিত্তিক রেটে কাজ পাওয়া যাবে। তবে এখানে আপনি fixed rate এর কাজও পেয়ে যাবেন।

পিপল পার আওয়ার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসেও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এখানে কাজ করে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য সর্বনিম্ন ২০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা যায়।

এই ইনকাম করা টাকার থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ টাকা এই সাইট কেটে নিয়ে থাকে। এখান থেকে কাজ করে ইনকাম করা টাকা আপনাকে পেপাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ও ব্যাংক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে উত্তোলন করতে হবে।

Guru

Guru হলো আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এটি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম।

এই সাইট ফিক্সড এবং ঘণ্টাভিত্তিক রেটে কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এখানে কাজ করলে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য ১০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়।

এই ওয়েবসাইটেও প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার পর আয় করা টাকার ৪.৯৫ থেকে ৮.৯৫ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হয়, তবে এর পরিমাণ অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলোর তুলনায় কম।

তাই আপনি চাইলে খুব সহজেই এই সাইটে কাজ করতে পারেন। অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মতো এখানেও প্রতিযোগিতা অনেক বেশি।

এখান থেকে আয় করা টাকা আপনি পেপাল, পেওনিয়ার ও ব্যাংক ট্রান্সফার পদ্ধতিতে তুলে নিতে পারবেন।

এছাড়া আরও কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হলো:

  • 99designs.com
  • Toptal.com
  • Dribbble
  • Weworkremotely
  • Simplyhired.com
  • Clearvoice

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কিভাবে কাজ পাবেন ?

যে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে হলে যেমন প্রতিষ্ঠানের নিকট বায়োডাটা জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় তেননি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে হলেও আপনার একটি বায়োডাটা বা প্রোফাইল দরকার হবে।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে আপনার একটি প্রোফাইল বা একাউন্ট তৈরি করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে আপনার একাউন্টে নিজের প্রোফাইল পিকচার, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এই সব কিছু ভালোভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

মানে আপনার প্রোফাইলটিকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন আপনি যখন কোন প্রজেক্টে বিড করবেন, তখন ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখে আকৃষ্ট হয়।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে নিজের একটি সুন্দর প্রোফাইল বানাতে হলে অনেক বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

যেমন:

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে আপনার প্রোফাইলে ঢুকলে প্রথমেই চোখ পড়বে আপনার প্রোফাইল পিকচারের উপর।

তাই আপনার একাউন্টে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে অবশ্যই একটি ফরমাল ছবি ব্যবহার করবেন।

আপনার কাজের দক্ষতা অনুসারে title, tag, description ইত্যাদি লিখতে হবে। আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট, সে বিষয়টি নিয়ে আপনার করা দুইটা অথবা একটা কাজ সেখানে রাখতে হবে।

যেমন: আপনি যদি logo design এর কাজ ভালো জানেন, তাহলে আপনার ডিজাইন করা একটি লোগো প্রোফাইলে যোগ করে দিতে পারেন।

ইতোমধ্যে আপনার করা সকল কাজের screenshot এবং link আপনার প্রোফাইলে রাখতে পারেন।

মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খোলার সময় কোন ফেক বা ভুয়া তথ্য দিবেন না। আপনার এনআইডি কার্ড এবং ব্যাংক একাউন্টে যে নাম এবং জন্ম তারিখ রয়েছে সেই নাম এবং জন্ম তারিখের সাথে মিল রেখে একাউন্টে সব তথ্য প্রদাণ করতে হবে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন এ বিষয়ে আশা করি আপনারা ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর নিচে আলোচনা করা হলো।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় ?

ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি সীমাহীন টাকা ইনকাম করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন, এটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে।

ক্লায়েন্টরা আপনাকে যত বেশি কাজ দিবে, আপনি যত বেশি কাজ করে জমা দিতে পারবেন, তত বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং হলো এক ধরনের ব্যবসা (business), যেখানে আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে যদি আপনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে মাসে ১০০০ ডলারেরও বেশি আয় করতে পারবেন।

অনেকে এরকমটা ভেবে থাকেন যে, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু তাদের এই ধারণাটা ভুল।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপনার ইনকামের পরিমাণ খুবই কম থাকবে। কেননা এসময় আপনি কাজটি ভালোভাবে শিখতে থাকবেন।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের থেকে কাজ পেতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

তাই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে আয় করার জন্য আপনার যথেষ্ট ধৈর্য্য থাকতে হবে এবং এই কাজে আপনাকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং জগতে একদম নতুন, কাজ শিখে তারপর ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছেন, তাহলে প্রথমে আপনাকে টাকা আয় করার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিতে হবে এবং মন দিয়ে কাজ শিখতে হবে।

মনে রাখবেন, কেবল দ্রুত টাকা আয় করার মানসিকতা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে আপনি বেশি দূর আগাতে পারবেন না।

আগে মনযোগ দিয়ে কাজ শিখুন, কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করুন, নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যেন ক্লায়েন্টকে সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন এবং ক্লায়েন্টয়ের যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধান করার সামর্থ্য আপনার থাকে।

মোটকথা হলো, প্রথমে আপনার পছন্দের কাজে ভালো দক্ষতা অর্জন করুন, এই কাজটি করতে পারলে টাকা নিজেই আপনার হাতে ধরা দিবে।

এই কথাটি সত্য যে, ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করা যায়। একটি সার্ভেতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং আয় মাসে ২ লাখের উপর।

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন কর্মীদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। এখানে নিয়মিত কাজ করছে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার। আর বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের ফ্রিল্যান্সররা প্রতিবছর ১০ কোটি ডলার আয় করে থাকেন।

তবে আপনিও যদি ফ্রিল্যান্সিং করে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমেই টাকা ইনকামের কথা না ভেবে অন্তত এক বছর সময় নিয়ে শেখার উপর জোর দিতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা টাকা তুলবেন কিভাবে ?

যেহেতু আপনি ফ্রিল্যান্সিং কি এই বিষয়ে জানার জন্য আর্টিকেলটি পড়তে এসেছেন, তাই ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করার পর সেটা কিভাবে তুলতে হয় এই বিষয়ে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

যদিও এই বিষয়টা আমি আপনাদের উপরে বলেছি, তবুও কিভাবে পারিশ্রমিক এর টাকা পাবেন এ বিষয়ে নিচে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর Payment অপশনে গেলেই জানতে পারবেন, তারা কোন কোন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে পেমেন্ট করে থাকে।

পেপ্যাল বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় এবং অনলাইনে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত একটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম।

তবে পেপাল এর সার্ভিস বাংলাদেশে চালু নেই। এই কারণে কিছুদিন আগেই আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের মাধ্যমে আয় করা টাকা হাতে পেতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতো।

বর্তমানে সেই সমস্যাটা পেওনিয়ার অনেকটাই দূর করে দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব মার্কেটপ্লেসেই পেপালের বিকল্প হিসেবে পেওনিয়ার ব্যবহার করে পেমেন্ট করে থাকে। এটি হলো বিশ্বজুড়ে free Mastercard প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

পেওনিয়ারের prepaid, debit এবং mastercard এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সহজে পেমেন্ট receive করতে পারবেন কিংবা পেমেন্ট করতেও পারবেন।

তাছাড়া বর্তমানে যেকোন সাইট থেকে সরাসরি bank transfer এর মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া যায়।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন? কোন ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করতে হবে ?

আসলে freelancing শেখার জন্য কোন কোর্স করার প্রয়োজন হয় না।

তবে ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন যেমন: কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো, কাজ পাওয়ার জন্য কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করবো এবং কিভাবে কাজ পাওয়া যাবে এগুলোর উত্তর আমাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন। যেগুলোর সবই আজকের আর্টিকেলে আমি আলোচনা করেছি।

উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে আপনাদের একটি বিষয় বুঝিয়ে দেওয়া দরকার।

মনে করুন, পড়াশোনা শেষ করে আপনি একটি ব্যাংকে ব্যাংকার হিসেবে যোগদান করলেন এবং আপনার একজন বন্ধু একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে একাউন্টেন্ট হিসেবে যোগদান করলো।

তাহলে আপনি এবং আপনার বন্ধু দুজনকেই চাকরিজীবী বলা হবে কিন্তু পৃথক পৃথকভাবে আপনি হলেন একজন ব্যাংকার এবং আপনার বন্ধু হলো একাউন্টেন্ট, এর মানে হলো আপনাদের পদবী আলাদা কিন্তু দুজনই চাকরিজীবী।

একইভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে কেউ হলেন কনটেন্ট রাইটার, আবার কেউ হলেন ডিজিটাল মার্কেটার। প্রত্যেকের পদবী আলাদা কিন্তু সবাই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিত।

এখন যদি বলা হয় যে, চাকরি করা কিভাবে শেখা যায়? তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিং কি

একইভাবে ফ্রিল্যান্সিং এ শেখার মতো কিছু নেই। আপনার কোন কাজে ভালো দক্ষতা থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।

আবার অনেকেই এরকম প্রশ্ন করে থাকেন যে, ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য কোন freelancing course করবো?

দেখুন, ফ্রিল্যান্সিং কোর্স বলতে তেমন কোন কোর্স করার আপনার দরকার হবে না।

তবে আপনি কাজ শেখার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু কোর্স করতে পারেন, যেমন: কাজ শেখার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন এবং শিখতে পারেন।

এরকম কিছু অনলাইন কোর্সের বিষয়ে নিচে আমি আপনাদের বলতে চলেছি।

  • Video Editing: ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ভিডিও এডিটিং এর কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ জন্য আপনি একজন ট্যালেন্টেড ভিডিও এডিটর হওয়ার জন্য কিছু ভালো ভিডিও এডিটিং কোর্স অবশ্যই করতে পারেন।
  • ওয়েবসাইট তৈরি: এটা আপনি অবশ্যই জানেন যে, ওয়েবসাইট বানানো এবং ডিজাইন করার কাজের চাহিদা আজকাল কেমন রয়েছে। তাই এই ব্যাপারে আর আমি কথা বলছি না।
  • Graphics Design: গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করাটা খুবই সম্ভাবনাময়। তাই আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর ভালো কোন কোর্স ইন্টারনেট থেকে খুঁজে করতে পারেন।
  • Content Writing: বর্তমানে ফ্রিল্যান্স রাইটারদের দিয়ে অনেকেই তাদের ব্যবসা বা কোম্পানির ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখিয়ে নিয়ে থাকেন। তাই আপনি কনটেন্ট রাইটিং এর কোর্স করে একটি ভালো এবং উন্নত মানের কনটেন্ট কিভাবে লিখতে হয় তা শিখে নিতে পারেন।
  • Programming / Coding: আপনি যখনই কোন android application, software কিংবা game ডেভেলপ করতে যাবেন, তখনই আপনার কোডিং সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান থাকা লাগবে। যদি আপনি কোডিং শিখে একজন দক্ষ কোডার হয়ে উঠতে পারেন তাহলে আপনি প্রচুর কাজ পেয়ে যাবেন।

তাহলে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন এই বিষয়ে আশা করি উপরে আপনারা ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা (Advantages of Freelancing)

ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার অন্যতম উপায় ফ্রিল্যান্সিং এর কিচু সুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য আপনার আলাদা কোন অফিস থাকতে হবে না। ঘরে বসে মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে সব কাজ আপনি করতে পারবেন।

২. কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা

ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি পুরোপুরি মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন। যখন আপনার কাজ করতে ভালো লাগবে না, তখন আপনি নতুন কোন কাজ না নিয়ে বসে থাকতে পারবেন।

অর্থাৎ এখানে আপনি নিজের ইচ্ছামত ছুটি কাটাতে পারবেন।

কিন্তু আপনি যদি কোন কাজ নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে শেষ করে ক্লায়েন্টকে জমা দিতে হবে।

৩. সময়ের স্বাধীনতা

আপনি যে কোনো সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। দিন, রাত যখন আপনার সুবিধা, তখনই আপনি কম্পিউটারের মাধ্যমে কাজ করতে পারবেন।

৪. নিজের ভালোলাগা কাজ করতে পারবেন

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যেতে পারে এরকম অসংখ্য কাজ রয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন কাজ আপনি সিলেক্ট করে নিতে পারেন।

তারপর সেই কাজটি ভালোভাবে শিখে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন।

৫. একসাথে একাধিক কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ

আপনি যখন সাধারণ চাকরি করেন, তখন কেবল একটি কোম্পানির আওতায় আপনাকে চাকরি করতে হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে আপনি একই সাথে একাধিক কোম্পানির কাজ করে আয় করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু অসুবিধা (Disadvantages of Freelancing)

ফ্রিল্যান্সিং এর কয়েকটি অসুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো।

১. অতিরিক্ত কাজের কারণে শারীরিক সমস্যা

অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা ঘুম থেকে উঠার পর থেকে সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করে কাটিয়ে দেন।

এতে তার নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন: মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, পিঠে ব্যাথা ইত্যাদি।

২. প্রতিষ্ঠিত হয়ে সময়ের প্রয়োজন

কেবল এক মাসে কিংবা এক বছরে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় না। সময় অনেক লাগার কারণে অনেকে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে, ফলে সফল হতে পারে না।

৩. সামাজিক মর্যাদা

আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিকভাবে কিছুটা হীন দৃষ্টিতে দেখা হয়ে থাকে। কেননা, আমাদের দেশের সকল মানুষের technology বিষয়ে ভালো জ্ঞান এবং ধারণা নেই, ফলে তারা ফ্রিল্যান্সারদের মূল্য বুঝতে পারে না।

৪. প্রত্যেক মাসে উপার্জন কম বেশি হয়ে থাকে

ফ্রিল্যান্সিং এ প্রতি মাসে আপনি সমান অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে যেকোন দুইটি মাসের অর্থের তুলনা করলে অনেক কম বেশি হতে পারে।

কেননা ধরুন আগের মাসে আপনি যেসব প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছেন, সেগুলোর প্রতিটিতে বাজেটের পরিমাণ বেশি ছিলো, ফলে আপনার ইনকামও বেশি হয়েছে।

আবার এই মাসে যে কয়েকটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছেন, এগুলোতে বাজেটের পরিমাণ কম থাকার কারণে ইনকামও কম হয়েছে।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং কি বা ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে, ফ্রিল্যান্সিং বলতে কী বোঝায়, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন এবং ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

যদি Freancing কি এই বিষয়ে আপনার আরও কোন প্রশ্নের উত্তর জানার থাকে তাহলে নিচে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করাটা প্রচুর লাভজনক। কেননা অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন, যারা তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মাসে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছেন।

তবে তারা ধৈর্য্য এবং শ্রম দিয়ে চেষ্টা করেছেন বলেই আজ সেই জায়গায় যেতে সক্ষম হয়েছেন।

যদি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করবেন।

Freelancing কি: FAQ

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কতদিন সময় লাগে ?

দেখুন, ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আপনার কতদিন সময় লাগতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলা সহজ নয়। এক্ষেত্রে যদি আপনি মনযোগ দিয়ে ১ বছর ভালো করে কাজ শিখেন, তাহলে আপনি অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করা যায়। মনে রাখবেন, শেখার কোন শেষ নেই। আপনি যত শিখবেন তত অজানা বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো ?

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য প্রথমে আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে, কোন কাজ আপনি শিখতে চান। এরপর সেই কাজের বিষয়ে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগ পড়া অথবা ইউটিউবে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখার মাধ্যমে ভালোভাবে শিখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি দরকার ?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য প্রথমেই দরকার প্রচুর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা জ্ঞান। এর পাশাপাশি আপনার নিজস্ব ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় ?

সহজভাবে বলতে গেলে, ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় তার কোন লিমিট নেই। এখান থেকে আপনি সীমাহীন টাকা ইনকাম করতে পারেন, যদি নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খুলবো ?

Upwork.com, Freelancer.com, Fiverr,com এসব সাইটে গিয়ে নিজের personal information দিয়ে sign up করার মাধ্যমে একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি ?

বর্তমানে translating, graphics design, SEO, Website & App development, digital msrketing এসব কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

OTHERS>